চাশতের নামাজের সময় ও নিয়ম

পড়তে ৪ মিনিট

চাশতের নামাজ: সময়, গুরুত্ব ও আদায়ের নিয়ম

চাশতের নামাজ কি?

চাশতের নামাজ একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত। নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার বিশেষ নৈকট্য লাভ করতে পারে। প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) ফরজ নামাজের পাশাপাশি নিয়মিত এই নফল নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবিদেরও এটি আদায়ে উৎসাহিত করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনদের আমলেও চাশতের নামাজের গুরুত্ব বিশেষভাবে দেখা যায়। আরবিতে এই নামাজকে ‘সালাতুদ দুহা’ (صلاة الضحى) বলা হয়।

চাশতের নামাজের সময়

সূর্য উদয়ের পর যখন তা আকাশের এক-চতুর্থাংশে উঠে আসে, তখন থেকেই চাশতের নামাজের সময় শুরু হয়।

  • সাধারণ সময়: গ্রীষ্মকালে আনুমানিক সকাল ৯টা থেকে ১০টা এবং শীতকালে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এটি আদায় করা হয়।
  • উত্তম সময়: সূর্যের তাপ যখন কিছুটা প্রখর হতে শুরু করে, তখন চাশতের নামাজ পড়া সবচেয়ে উত্তম।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: صلاة الأوابين حين ترمض الفصال অর্থ: “আল্লাহমুখী বান্দাদের (চাশতের) নামাজ তখন পড়া হয়, যখন সূর্যের তাপে উটের বাচ্চার পা গরম হয়ে ওঠে।”

চাশতের নামাজের রাকাত সংখ্যা

চাশতের নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকাত। তবে ৪ রাকাত পড়া উত্তম। হাদিস শরিফে ৪, ৮ এবং ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। যেহেতু এটি নফল নামাজ, তাই সময়ের সুযোগ বুঝে বেশি পড়লে অতিরিক্ত সওয়াব লাভ করা যায়।

  • হাদিসের আলোকপাত: মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আলী (রা.)-এর বোন হজরত উম্মে হানি (রা.)-এর ঘরে সংক্ষিপ্তভাবে ৮ রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করেছিলেন। নামাজ সংক্ষিপ্ত হলেও তিনি রুকু ও সেজদায় পূর্ণ ধীরস্থিরতা বজায় রেখেছিলেন এবং প্রতি দুই রাকাত পরপর সালাম ফিরিয়েছিলেন।
  • দিন ও রাতের নফল নামাজগুলো দুই রাকাত করে আদায় করা সুন্নাত। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: صلاة الليل والنهار مثنى مثنى অর্থ: “দিন ও রাতের নফল নামাজ দুই দুই রাকাত করে।”

চাশতের নামাজ আদায়ের নিয়ম (২ রাকাতের ধারাবাহিক বর্ণনা)

চাশতের নামাজ আদায়ের নিয়ম অন্যান্য নফল নামাজের মতোই।

১. নিয়ত ও তাকবিরে তাহরিমা:

কিবলামুখী হয়ে মনে মনে চাশতের দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করে “আল্লাহু আকবার” বলে দুই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে বাঁধতে হবে (তাকবিরে তাহরিমা)।

(নিয়তের বাক্য উচ্চারণ বাধ্যতামূলক নয়, তবে মুখে বলতে চাইলে: “আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে চাশতের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি— আল্লাহু আকবার।”)

২. ছানা পাঠ:

হাত বাঁধার পর ছানা পড়তে হবে:

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক।

৩. প্রথম রাকাত:

  • ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ে সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত করতে হবে।
  • সুরা ফাতিহা শেষে বিসমিল্লাহসহ কোরআনের যেকোনো একটি সুরা বা কিছু আয়াত মিলাতে হবে।
  • এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে কমপক্ষে ৩ বার পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম”।
  • রুকু থেকে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলতে হবে: “রাব্বানা লাকাল হামদ”।
  • এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে সেজদায় যেতে হবে। সেজদায় কমপক্ষে ৩ বার পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”।
  • “আল্লাহু আকবার” বলে প্রথম সেজদা থেকে উঠে বসে পড়া উত্তম: “আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়ারজুকনি ওয়াহদিনি” (অথবা সংক্ষেপে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসা)।
  • এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে দ্বিতীয় সেজদায় যেতে হবে এবং আগের মতো ৩ বার “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পড়তে হবে।

৪. দ্বিতীয় রাকাত:

  • দ্বিতীয় সেজদা শেষে “আল্লাহু আকবার” বলে পরবর্তী রাকাতের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
  • “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” পড়ে সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত করতে হবে এবং সাথে অন্য একটি সুরা মেলাতে হবে।
  • প্রথম রাকাতের মতোই রুকু, রুকু থেকে দাঁড়ানো এবং দুটি সেজদা সম্পন্ন করতে হবে।

৫. শেষ বৈঠক ও সালাম:

  • দ্বিতীয় সেজদা শেষ করে “আল্লাহু আকবার” বলে শেষ বৈঠকে বসতে হবে।
  • বৈঠকে ধারাবাহিকভাবে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু), দরূদে ইব্রাহিম এবং দোয়া মাসুরা পাঠ করতে হবে।
  • পড়া শেষে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলে প্রথমে ডানে এবং পরে বামে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল ইবাদত ও সুন্নতের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।’

☆☆☆☆☆ 0 / ৫ (0 টি রিভিউ)
★★★★★

এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!

মোহাম্মদ শওকত আকবার

আমি মোহাম্মদ শওকত আকবার… একজন লেখক, কবি, প্রযুক্তি উদ্ভাবক আর কন্টেন্ট নির্মাতা – সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে বলি, একজন সৃষ্টিশীল যাযাবর। শব্দের সাথে, স্ক্রিপ্টের সাথে, আর মানুষের সাথে সংযুক্ত থাকার এক নিরন্তর প্রচেষ্টা। showkatbd.com আমার নিজের তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম – যেখানে আমি সংরক্ষন করেছি আমার চিন্তা, চেতনা, ভালোবাসা আর প্রযুক্তির প্রয়োগ। শব্দ আর কোডের মিলনে এক ব্যতিক্রমধর্মী বাংলা প্লাটফর্ম। আমি লিখি, কোড করি, ভাবি, এবং আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তি, সাহিত্য, ধর্ম - এক আঙিনায় সকল কিছু।