কালিমা-দোয়া-দুরুদ-অজিফা : দ্বীনের কলমে শওকত

পড়তে ৩১ মিনিট

কালিমা-দোয়া-দুরুদ-অজিফা : দ্বীনের কলমে শওকত

কালিমা শব্দের অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরীয়তের ভাষায় কালিমা হলো, যে বাণী আল্লাহর পরিচয় দেয়ার মাধ্যমে সত‍্যের পথ দেখায়। মুসলমান হতে হলে যে কথাগুলো মনে বিশ্বাস করতে হবে ও কাজে পালন করতে হবে সেই কথাগুলোকে কালিমা বলে। অর্থ বিশ্লেষন করলে দেখা যায় সবগুলো কালিমার মুল ভাবার্থ একই এবং বাক্যগুলোর অর্থ সুন্দর। উচ্চারনসহ কালিমার অর্থ :

কালিমা-ই তায়্যিবা

لَا إِلٰهَ إِلَّا الله مُحَمَّدٌ رَسُولُ الله

উচ্চারন : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই, মুহাম্মাদ (স.) আল্লাহর রাসুল।

কালিমা-ই শাহাদাত

اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَريْكَ لَهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُه

উচ্চারন : আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই, তিনি এক- তাঁর কোন অংশীদার নাই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল।

কালিমা-ই তাওহীদ

لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ وَاحِدَ لَّاثَانِىَ لَكَ مُحَمَّدُرَّ سُوْلُ اللهِ اِمَامُ الْمُتَّقِيْنَ رَسُوْ لُرَبِّ الْعَلَمِيْنَ

উচ্চারন: লা-ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহিদাল্লা ছানীয়ালাকা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ইমামুল মুত্তাকীনা রাসুলু রাব্বিল আলামীন।

অর্থ: তুমি (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তুমি এক, তোমার দ্বিতীয় কেউ নেই। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ(সা.) আল্লাহভীরুদের নেতা ও বিশ্ব প্রতিপালকের রাসূল।

কালিমা-ই তামজীদ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ نُوْراً يَهْدِيْ اللهُ لِنُوْرِهِ مَنْ يَشَاءُ مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللهِ إِمَامُ الْمُرْسَلِيْنَ خَاتَمُ النَّبِيِّيْنَ

উচ্চারন: লা ইলাহা ইল্লা আনতা নূ-রাই ইহায়দিয়াল্লাহু লিনূরিহী মাই-ইয়াশাউ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহি ইমামুল মুরসালীনা ওয়া খাতামান নাবিয়্যীন।

অর্থ: তুমি (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। তুমি জ্যোতির্ময়, যাকে ইচ্ছা হয় তাকেই তোমার নূর দ্বারা পথ প্রদর্শণ কর। মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, রাসুলগণের নেতা এবং সর্বশেষ নবী।

ঈমান-ই মুজমাল

امَنْتُ بِاللهِ كَمَا هُوَ بِاَسْمَائِه وَصِفَاتِه وَقَبِلْتُ جَمِيْعَ اَحْكَامِه وَاَرْكَانِه

উচ্চারন: আ-মানতু বিল্লা-হি কামা-হুয়া বিআসমা-ইহী ওয়া সিফা-তিহী ওয়া ক্বাবিলতু জামী-আ আহকা-মিহী ওয়া আরকা-নিহী।

অর্থ: আমি আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান আনলাম। তিনি যেমন, তার নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলী সহকারে এবং আমি গ্রহণ করেছি তার সমস্ত হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান।

ঈমান-ই মুফাসসাল

امَنْتُ بِاللهِ وَمَلئِكَتِه وَكُتُبِه وَرَسُوْلِه وَالْيَوْمِ الْاخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِه وَشَرِّه مِنَ اللهِ تَعَالى وَالْبَعْثِ بَعْدَالْمَوْتِ

উচ্চারন: আ-মানতু বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসূলিহী ওয়াল ইয়াউমিল আ-খিরী, ওয়াল ক্বাদরি খায়রিহী-ওয়া শাররিহী মিনাল্লা-হি তাআলা ওয়াল বা’সি বা’দাল মাওত।

অর্থ: আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর উপর তাঁর ফিরিশতাদের উপর, তাঁর আসমানী কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের উপর আর এর উপর যে, অদৃষ্টের ভাল-মন্দআল্লাহ তা’আলার তরফ হতে এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের উপর।

সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ন দুরুদ এই দুরুদে ইব্রাহিম। বা বড় দরুদ । এই দুরুদ আমাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর প্রশংসা করা হয় বলে একে  দুরুদে ইব্রাহিম বলা হয়। আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ (সা.) এই দুরুদ পাঠ করতে বলেছেন।

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ, وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِْيدٌ مَجِيْدٌ . –

বাংলা উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা সাললিআলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা সাললাইতা আলা ইব্রাহীম, ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীম, ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

বাংলা অনুবাদঃ হে আল্লাহ্! মুহাম্মদ (সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ আশীর্বাদ অবতীর্ণ করুন, যেইরূপ আর্শীবাদ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আল্লাহ্! মুহাম্মদ (সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ করুন যেরূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।

নবীর উপর দুরুদ পাঠ

প্রিয় নবির নাম শুনার সাথে সাথে দুরুদ পাঠ করার তাগিদ রয়েছে। আমরা তাঁর নাম শুনা মাত্রই – সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলে থাকি। যার অর্থ – তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। এটাও একটি দুরুদ। অর্থ এরকম: “হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের প্রতি আপনি দয়া পরবশ হোন। তার আলোচনা ও নামকে আপনি এই পৃথিবীর সকল আলোচনা ও নামের মাঝে সর্বোচ্চ স্থানে রাখুন।”

দুরুদ পাঠের ফজিলত

■ মহানবী সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহমত নাযিল করবেন।

■ অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ১০টি পাপ মোচন করবেন এবং সে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত হবে।

■ নবিজী  ও তার পরিবারের প্রতি দুরুদ পাঠ করা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়।

■ প্রতিনিয়ত দুরুদ পাঠ ব্যক্তির পার্থিব ও স্বর্গীয় ইচ্ছা (প্রার্থনা) পূরণ করে।

আল্লাহ আমাদের সদা সর্বদা নবীর উপর দুরুদ পড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফরজ এবাদত। আর এই সকল ফরজ ইবাদত গুলোর মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হচ্ছে অন্যতম। একজন মুমিন বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর সব সময় আল্লাহ তাআলার বিভিন্ন ধরনের আমল করে থাকেন। আর যে যত বেশি আমল করতে পারবে আল্লাহ তাআলা তার উপর তত বেশি সন্তুষ্ট হবেন এবং তাকে তত বেশি সওয়াব দান করবেন।

৫ ওয়াক্ত নামাযের অজিফা :

১. ফজরের নামাযের পর ১০০ বার পড়ুন :

আরবি :   هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ

উচ্চারণ : হুয়াল হাইয়্যুল কাইউম ।

অর্থ : তিনি জীবিত ও অবিনশ্বর ।

২. যোহরের  নামাযের পর ১০০ বার পড়ুন:

আরবি :   هُوَ اَعْلَى الْعَظِيْم

উচ্চারণ : হুয়াল আলীউল আজীম ।

অর্থ : তিনি শ্রেষ্ঠতম ও অতি মহান ।

৩. আসরের নামাযের পর ১০০ বার পড়ুন:

আরবি :    هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ : হুয়াল রাহমানুর রাহীম ।

অর্থ : তিনি কৃপাময় ও করুণানিধান।

৪. মাগরিব নামাযের পর ১০০ বার পড়ুন:

আরবি :    هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ : হুয়াল গাফুরুর রাহীম ।

অর্থ : তিনি পাপ মার্জনাকারী ও দয়াময় ।

৫. ঈসা নামাযের পর ১০০ বার পড়ুন:

আরবি : هُوَ اللَّطِيْفُ الْخَبِيْرُ

উচ্চারণ : হুয়াল লতিফুল খাবির ।

অর্থ : তিনি অতিশয় সতর্কশীল ।

মহাল আল্লাহ্ আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায বাদ উক্ত তসবিহ পাঠ করার তৌফিক দান করুন । আমীন!

আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন, সুস্থতার সাথে নেক আয়ু দান করুন এই দোয়ায়..

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيم, لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِالله, اللّهُـمَّ اغْفِـرْ لي
সুব্হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযিম, লা হাওলা ওয়ালা, ক¦ুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি
অর্থ: মহান সেই আল্লাহ এবং তারই সকল প্রশংসা। মহান সেই আল্লাহ যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ ছাড়া কোনো ভরসা নেই; কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।

আল্লাহ্’র প্রশংসায় পড়ুন :

উচ্চারন ও অর্থ:

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ العَظِيم
উচ্চারন: সুব্হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযিম
অর্থ: মহান সেই আল্লাহ এবং তারই সকল প্রশংসা। মহান সেই আল্লাহ যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِالله
উচ্চারন: লা হাওলা ওয়ালা ক¦ুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ভরসা নেই; কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই

اللّهُـمَّ اغْفِـرْ لي
উচ্চারন: আল্লাহুম্মাগ ফিরলি
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র, সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশক্তিমান। মানুষের ব্যক্তিগত শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা ও সাহস যতই থাকুক না কেনো যদি আল্লাহ তায়ালা তাওফিক না দেন তা কোনো ধরনের উপকারেই আসে না। আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বা সব কিছুর ঊর্ধ্বে, সব শক্তিধর বস্তু আল্লাহ তায়ালার সামনে একেবারে তুচ্ছ ও ছোট।

আর আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তারই গুনগান করার জন্য। তার আদেশ নিষেধ মেনে জীবন চালানোর জন্য।

আমাদের মানব জাতির করনীয় সর্বদা সেই স্রষ্টার প্রশংসা করা, তাঁর কাছে আত্নসমর্পন করা এবং তাঁরই কুদরতি পায়ে নিজেদের মাথা ঠেকানো। আর মুখে ‍মুখে সব সময় তাঁরই তাসবিহ পাঠ করা ও তাঁরই প্রশংসা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ছোট ছোট এইসব আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

দোয়ায়ে ইউনুস সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরানে বলেন : فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ ۚ وَكَذَٰلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ – ফাসতাজাবনা লাহু  ওয়া নাজ্জাইনা মিনাল গাম্মি, ওয়া কাজালিকা নুনাজ্জিল মুমিনিন। [আমি তাঁর (নবী ইউনুসের) ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। তাঁকে দু:খ থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। মুমিনদের আমি এভাবেই উদ্ধার করি। -সূরা আল আম্বিয়া: ৮৮]

সুরা আম্বিয়ার ৮৭ নং আয়াতের শেষ অংশই হচ্ছে দোয়ায়ে ইউনুস –

لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারন : লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজজলিমীন।’

অর্থ: ইয়া আল্লাহ, আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি পাপী। –সূরা আল আম্বিয়া: ৮৭

হযরত ইউনুস (আ:) অত্যন্ত সম্মান, বিনয় ও কাতর স্বরে এই দোয়া পাঠ করে মাছের পেট থেকে পরিত্রান পেয়েছিলেন বলেই একে দোয়ায়ে ইউনুস বলা হয়। হযরত ইউনুস (আ:) ৪০ দিন পর্যন্ত অন্ধকার মাছের পেটে থেকে শুধু তাসবিহ-তাহলিল করে নিজের পাপের জন্য অনুশোচনা ব্যক্ত করে কান্নাকাটি করেছিলেন।

দুনিয়াবি যে কোনো বিপদ আপদ থেকে পরিত্রানে এই দোয়াটি একাগ্রচিত্তে পাঠ করলে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনুল কারিমের (সূরা আস সাফফাত : ১৩৯-১৪৪) এ ইরশাদ হয়েছে,

وَاِنَّ يُوۡنُسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ‏ – ইউনুসও ছিল রসূলদের একজন।

اِذۡ اَبَقَ اِلَى الۡفُلۡكِ الۡمَشۡحُوۡنِۙ‏ – স্মরণ কর, যখন সে পালিয়ে বোঝাই নৌকায় পৌঁছেছিল।

فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الۡمُدۡحَضِيۡنَ​ۚ‏ – অতঃপর (দোষী খুঁজার জন্য যে লটারী করা হল সেই) লটারীতে সে অংশ নিল আর তাতে হেরে গেল।

فَالۡتَقَمَهُ الۡحُوۡتُ وَهُوَ مُلِيۡمٌ‏ – পরে এক বৃহদাকার মাছে তাকে গিলে ফেলল। তখন সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো।

فَلَوۡلَاۤ اَنَّهٗ كَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِيۡنَۙ‏ – সে যদি (অনুতপ্ত হয়ে) আল্লাহর তাসবীহকারী না হত,

لَلَبِثَ فِىۡ بَطۡنِهٖۤ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَ​ۚ‏ – তাহলে নিশ্চিতই তাকে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটে থাকতে হত।

তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত, বিপদ আপদে বা সংকটপূর্ন মুহুর্তে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধারন করে শুধু আল্লাহ পাকের কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা আর তার তাসবীহ তাহলিল পাঠ করা।

আল্লাহ আমাদের তার উপর পরিপূর্ন আস্থা এনে সবুর করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

” ইয়া আল্লাহ,আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি পাপী “

হজরত মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা পেয়ারা নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে জানতে চাইলেন, যদি আমি শবে কদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন –

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারন : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা পছন্দ করেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

আসুন জানি, শব্দে শব্দে উচ্চারন ও অর্থ –

আরবী –    উচ্চারন –      অর্থ

اللَّهُمَّ – আল্লাহুম্মা –  হে আল্লাহ

إِنَّكَ – ইন্নাকা – নিশ্চয় আপনি

عُفُوٌّ – আফুউন – ক্ষমাশীল, ক্ষমার আধার

تُحِبُّ – তুহিব্বুল – আপনি পছন্দ করেন

الْعَفْوَ – আফওয়া – ক্ষমা করতে

فَاعْفُ – ফা’ফু – অত:পর ক্ষমা করুন

عَنِّي – আন্নি –  আমাকে।

আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা মর্তবা সম্পন্ন এই দোয়াটি আমাদের সকলের জীবনে লাইলাতুল ক্বদরের রাত্রিতেই শুধু নয়, সদা সর্বদা আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

ইসমে আজম দোয়া : ইসমে আজম হচ্ছে আল্লাহর মহান নাম। আল্লাহর বড়ত্বকে বোঝানো। আলেমদের মতে, ইসমে আজম সহকারে আল্লাহর নিকট দোয়া করলে অবশ্যই আল্লাহ্‌ এই দোয়া কবুল করে থাকেন। (আল্লাহই ভালো জানেন)।

দোয়া নং ১

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আংতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল আহাদুস সামাদুল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ আমি সুদৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি এক, অমুখাপেক্ষী। যার কোনো সন্তান নেই, তিনিও কারো সন্তান নন এবং তার সমকক্ষ কেউ নেই।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালারএই নামের মাধ্যম্য দোয়া করে থাকেন, যার উছিলায় কিছু প্রার্থনা করে থাকেন মহান আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া কবুল করে থাকেন এবং তা প্রদান করে থাকেন।

দোয়া নং ২

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لك الْمَنَّانُ بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা বি-আন্না লাকাল হা’মদু লা-ইলা-হা ইল্লা-আনতা ওয়াহ’দাকা লা-শারিকা লাকাল মান্না-ন, ইয়া বাদিআ’স্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ তুমিই প্রশংসার যোগ্য। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি হান্নান ও মান্নান (দয়ালু ও দাতা)। তুমিই আসমান-যমীনের স্রষ্টা। হে শ্রেষ্ঠত্ব ও বদান্যতার অধিকারী। হে চিরঞ্জীব। হে বিশ্ব জাহানের ব্যবস্থাপক।

وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ ‎﴿١٦٣﴾‏

দোয়া নং ৩

لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন। (সূরা আম্বিয়া: ৮৭)

অর্থ: তুমি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের দলভুক্ত।

হযরত সাদ ইবনে ওয়াক্কাস (রা) বলেন, রাসুল সাঃ বলেন যে- আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর ইসমে আযম জানিয়ে দিব না? হযরত ইউনূস (আ) এর দুআই হলো ইসমে আযম। তখন এক ব্যক্তি বলল, এটা কি হযরত ইউনূস (আ) এর জন্যই নির্ধারিত। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তুমি কি শোন নাই এরপর আল্লাহ তাআলা কি বলেছেন-

এরপর তাকে আমি উদ্ধার করলাম দুঃখ-দুশ্চিন্তা হতে। এমনিভাবে আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি। (সূরা আম্বিয়া: ৮৮)

ইসমে আজম পড়ার নিয়ম ও সময়

যে কোন নেক প্রয়োজনে ইসমে আজম সহ আল্লাহর নিকটে দোয়া করলে আল্লাহ পাক তা কবুল করেন। নামাযের সালাম ফিরানোর পর আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা সহকারে ইসমে আজম বা আল্লাহর সুমহান নাম ধরে ডেকে তার নিকটে দোয়া করতে হয়।

ইসমে আজম কি এবং কেন এই দোয়া পড়তে হয়?

আরবি শব্দ الاسم الأعظم, নামসমূহ দিয়ে আল্লাহর বড়ত্বকে বোঝানো হয়ে থাকে। ইসমে আজমকে আল্লাহর মহান নাম (اسم الله الأکبر)-ও বলা হয়ে থাকে। তবে ইসমে আজম আল্লাহর কোন নাম এটা সুনিদিষ্টভাবে জানা যায়না। শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের নিকট ইসমে আজম হচ্ছে আল্লাহর এক বিশেষ নাম এবং এক বিশেষ দোয়া। ইসলামি স্কলারদের মতে, ইসমে আজম সহকারে আল্লাহর নিকট দোয়া করলে অবশ্যই আল্লাহ্‌ এই দোয়া কবুল করে থাকেন। আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।

ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তির দোয়া : জীবন চলার পথে আমরা প্রতিনিয়তই মানুষের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি প্রকাশ্যে বা চোখের আড়ালে। একটি ষড়যন্ত্র ধ্বংস করে দিচ্ছে এক একটি ফ্যামিলি। ষড়যন্ত্রের শিকারে ভাই হারাচ্ছে ভাই, সন্তান হারাচ্ছে বাবা, বন্ধু হারাচ্ছে তার মন খুলে কথা বলার মতো লোকটিকে। জীবনের সব অশান্তি আর দূর্ঘটনা গুলো ঘটে শুধু এই ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার কারনেই।

পবিত্র কোরানে জীবন চলার পথের সকল সংকট আর বিপদ থেকে মুক্তির জন্যও রয়েছে দিক নির্দেশনা। এসব নির্দেশনা অনুস্বরন করাও প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।

ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তির দোয়া – رَبِّ اِنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِر    

উচ্চারণ: রব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তো অসহায়। অতএব তুমি আমাকে সাহায্য করো।

নুহ (আ.) তার উম্মতদের দ্বারা কোণঠাসা হয়ে, আল্লাহর হুকুমে তিনি এই দোয়া করেছিলেন। আর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহাপ্লাবন দিয়ে তাকে সাহায্য করেন। আর তার শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করে দেন। (সুরা: কামার, আয়াত : ১০, তাফসিরে তাবারি)

رَبِّ اِنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِر

রব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির।

“হে আল্লাহ, আমি তো অসহায়। অতএব তুমি আমাকে সাহায্য করো।”

আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া এক নেয়ামত হচ্ছে  বাবা-মা । সন্তানের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে শেষ্ঠ সম্পদও বটে। এমনই এক সম্পদ, যে সম্পদের বিনিময় মূল্য এই পৃথিবীতে এখনো সৃষ্টি হয়নি আর ভবিষ্যতে হবেওনা।

আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরানের মাধ্যমে সেই বাবা-মা জীবিত থাকুক আর নাইবা থাকুন, তাদের জন্য  দোয়া করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই সব দোয়ায় আছে নিজেদের (সন্তানদের) জন্য কল্যান।

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

উচ্চারণ : ‘রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।’

অর্থ : (হে আমাদের) পালনকর্তা! তাদের (বাবা-মা) উভয়ের প্রতি দয়া কর; যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৪)

বাবা মায়ের জন্য দোয়া-২ : জন্মদাতা বাবা-মার জন্য প্রতিনিয়ত আমাদের (সন্তানদের) দু’হাত তুলে দোয়া করা উচিত। ইবরাহীম (আঃ) এই দু’আ তখন করেছিলেন যখন তাঁর কাছে স্বীয় পিতা আযর এর ব্যাপারে আল্লাহর দুশমন হওয়ার কথা প্রকাশ পায়নি। যখন প্রকাশ পেয়ে গেল যে, তাঁর পিতা আল্লাহর দুশমন, তখন তিনি সম্পর্কছিন্নতা ব্যক্ত করলেন। কেননা যতই নিকটাত্মীয় হোক না কেন, মুশরিকদের জন্য (ক্ষমা প্রার্থনার) দু’আ করা বৈধ নয়।

رَبَّنَا ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٰلِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ ٱلْحِسَابُ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’

অর্থ : ‘হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)

হে আল্লাহ্ বাবা-মায়ের জন্য সেবা শুশ্রুষা কিছুইতো করতে পারি নাই। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। মাফ করে দাও অন্ধকার কবরে শায়িত আমার জন্মদাতা পিতা আর গর্ভধারিণী মাকে।

আজ থেকে বাবা মায়ের জন্য দোয়া করা হোক আমাদের প্রতিদিনকার একটি বাধ্যতামূলক রুটিন মাফিক কাজ। আল্লাহ আমাদের এই আমলটি করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

আল্লাহ রাহমানির রাহীম পবিত্র কোরানের মাধ্যমে বারংবার জন্মদাতা বাবা-মার জন্য দোয়া করার জন্য সন্তানদের তাগিদ দিয়েছেন। সন্তানদের দোয়া বাবা মার জন্য এক একটি বুলেট। আর বাবা মার দোয়াও সন্তাদের জন্য এক একটি বুলেট। যা কখনোই মিস ফায়ার হয় না। তাই প্রতিটি সন্তাদের উচিত প্রতি নিয়ত জীবিত বা মৃত বাবা মার জন্য আল্লাহ্’র দরবারে হাত তুলে তাদের মাগফিরাতের জন্য কান্নাকাটি করা।

رَّبِّ ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٰلِدَىَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِىَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ وَلَا تَزِدِ ٱلظَّٰلِمِينَ إِلَّا تَبَارًۢا

উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও ওয়া লিলমুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত ওয়া লা তাযিদিজ জ্বালিমিনা ইল্লা তাবারা।’

অর্থ : ‘হে আমার রব! আমাকে, আমার বাবা-মাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন আর আপনি জালিমদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।’ (সুরা নুহ : আয়াত ২৮)

হে আল্লাহ, আমার বাবা-মা, আমার পূর্ব-পুরুষদের আপনি জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন।

আজ আমি আপনি আমাদের বাবা-মার জন্য আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে কান্নাকাটি করলে, আমার আপনার সন্তানেরাও এক সময় আমার আপনার জন্য কান্নকাটি করবে। এটাই আল্লাহর বিধান.. মোহাম্মদ শওকত আকবার

ভাগ্য পরিবর্তনের দোয়া : মানুষ সৌভাগ্যবান হতে চায়। দুর্ভাগ্য কারো কাঙ্ক্ষিত নয়। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মানুষ অনেক চেষ্টা করে, দুর্ভাগ্য এড়াতে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে এবং মহান আল্লাহ’র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমই হচ্ছে দোয়া। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য এবং ভাগ্যের দুরবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তাকদিরের বিরুদ্ধে সতর্কতা কোনো কাজেই আসবে না। যা ঘটেছে ও যা ঘটতে পারে—তা থেকে শুধু দোয়াই পারে নিষ্কৃতি দিতে। কোনো কোনো দুর্দশার সঙ্গে মোকাবেলা করে বিচার দিন পর্যন্ত লড়াই করতে থাকে দোয়া।’ (তাবরানি আউসাত, হাদিস : ১৫১৯)

হাদিসে দোয়া করাকে স্বতন্ত্র ইবাদত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহাবি নোমান বিন বাশির (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত,

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৮১)

পবিত্র কোরআনে মহার আল্লাহ তায়ালা নিজেও তার বান্দাদের বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। অহংকারবশত যারা আল্লাহর ইবাদত করে না, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬০)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য আলাদা ও স্বতন্ত্র অনেক দোয়া শিখিয়েছেন তাঁর সাহাবীদের এবং তাঁর উম্মতদেরও তা পালনের জন্য বলেছেন। সাহাবি আবু মালিক আশআরী (রা.) তার বাবা সাহাবী আসিম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে বেশি বেশি দোয়া করতে বলতেন। দোয়াটি হলো-

االلّهُـمَّ اغْفِـرْ لي ، وَارْحَمْـني ، وَاهْدِنـي ، وَعافِنـي وَارْزُقْنـي

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাগ্ ফিরলী, ওয়ার‘হামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া ‘আ-ফিনী, ওয়ারযুকনী।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাকে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন। (সহীহ মুসলিম, হাদিস, ২০৭৩, ২৬৯৭।

ছোটটো এই দোয়াটিতে মহান আল্লাহর কাছে একজন মানুষের জীবনের সকল চাওয়া পাওয়ার আকুতি ফুটে উঠেছে। তাই মুমিনের উচিত সব ধরনের ব্যস্ততার মধ্যে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি এই দোয়াটি করা এবং নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।

আল্লাহ আমাদের মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ধৈর্য্য ধারনের দোয়া : رَبَّنَآ أَفۡرِغۡ عَلَيۡنَا صَبۡرًا وَتَوَفَّنَا مُسۡلِمِينَ

উচ্চারন : রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়াতা ওয়াফফানা মুসলিমীন।

বাংলা অর্থ : হে আমার রব, কঠিন পরীক্ষায় আপনি আমাদের ধৈর্য্য ধারন করার শক্তি দান করুন, এবং আপনার অনুগত বান্দা হিসেবে আমাদের মৃত্যু দান করুন।
(সুরা আরাফ – আয়াত – ১২৬)

বিপদে পতিত হলে আমরা অধৈর্য্য হয়ে যাই। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমরা ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করি। ইসলাম ধর্মে যেটা সম্পূর্ন নিষেধ। অধৈর্য্য না হয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাই একজন মুমিনের কাজ। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এটাই পছন্দ করে থাকেন।

বিপদ, দুঃখ, দুর্দশা সেতো আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকেই নির্ধারিত। আর সেখান থেকেই তো এর আগমন। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক বিপদ দিয়ে থাকেন তিনিই তা সমাধানকারী। বিপদ দিয়ে তিনি তার বান্দার ঈমানী পরীক্ষা নিয়ে থোকেন। অধৈর্য্য হয়ে যাওয়া মানেই বিপদথগামী হয়ে যাওয়া এবং আল্লার উপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলা। যা একজন মুমিনের কাজ হতে পারেনা।

মুমিনের কাজ হচ্ছে বিপদে ধৈর্য্য ধারন করা। আল্লাহ্ তায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। তিনিই যে সমাধান কারী তা মেনে সকল কিছু তার উপরে ছেড়ে দেয়াই একজন মুমিনের কাজ।

আসুন আমরা বিপদে, কষ্টে বেশী বেশী উপরোক্ত আমলটি করি আর আল্লাহ জাল্লা শানুহু’র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।

”রাদিতু বিল্লাহি রব্বাও, ওয়া বিল ইসলামি দিনাও, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যা” (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

ভালো কাজের পুরষ্কার জান্নাত। জান্নাত মুমিন মুসলমানের চিরস্থায়ী ঠিকানা। এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে জান্নাত চায় না। ‘আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বে, আমি তার (জান্নাতের) দায়িত্ব নিলাম। কেয়ামতের দিন আমি তাকে হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাব’।দোয়াটি হলো:

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا

উচ্চারণ : রাদিতু বিল্লাহি রব্বাও, ওয়া বিল ইসলামি দিনাও, ওয়া বিমুহাম্মাদিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাবিয়্যা।’

অর্থ : আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবি হিসেবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবির সঙ্গে জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিজের জন্য দোয়া : হাদিসে দোয়া করাকে স্বতন্ত্র ইবাদত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহাবি নোমান বিন বাশির (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৮১)

আল্লাহ তায়ালা নিজেও পবিত্র কোরআনে তার বান্দাদের বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে,

وَقَالَ رَبُّکُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَکُمۡ ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَہَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ

তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৬০)

নিজের জন্য দোয়া : জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য সর্বদা আমাদের পড়া উচিত, অনেক মর্তবা সম্পন্ন একটি দোয়া :  اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারন: “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।“

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও”

[author_sharebox]

☆☆☆☆☆ 0 / ৫ (0 টি রিভিউ)
★★★★★

এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!

মোহাম্মদ শওকত আকবার

আমি মোহাম্মদ শওকত আকবার… একজন লেখক, কবি, প্রযুক্তি উদ্ভাবক আর কন্টেন্ট নির্মাতা – সবকিছু মিলিয়ে নিজেকে বলি, একজন সৃষ্টিশীল যাযাবর। শব্দের সাথে, স্ক্রিপ্টের সাথে, আর মানুষের সাথে সংযুক্ত থাকার এক নিরন্তর প্রচেষ্টা। showkatbd.com আমার নিজের তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম – যেখানে আমি সংরক্ষন করেছি আমার চিন্তা, চেতনা, ভালোবাসা আর প্রযুক্তির প্রয়োগ। শব্দ আর কোডের মিলনে এক ব্যতিক্রমধর্মী বাংলা প্লাটফর্ম। আমি লিখি, কোড করি, ভাবি, এবং আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। প্রযুক্তি, সাহিত্য, ধর্ম - এক আঙিনায় সকল কিছু।