লেখকদের জন্য কিছু অপ্রিয় সত্য – প্রযুক্তির এই যুগে লেখকদের কেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসা উচিত? ফেসবুক বুস্টিং বনাম নিজস্ব ওয়েবসাইটের পার্থক্য এবং এআই (AI) যুগে টিকে থাকার উপায় নিয়ে মোহাম্মদ শওকত আকবারের একটি নিজস্ব মতামত।
লেখকদের জন্য কিছু অপ্রিয় সত্য | শওকত আকবার
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের অনেক ভালো মানের লেখক এখনো সেই পুরোনো কাগজ-কলম আর ফেসবুকের গণ্ডিতেই আটকে আছেন। প্রযুক্তির এই যুগে এসেও অনেকে নিজের মোবাইল বা ডেক্সটপ থেকে একটি লেখা ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারেন না। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে তা কীভাবে রিকভার বা রিট্রিভ করতে হয়, সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও অনেকের নেই। অবশ্য জ্ঞান নেই বলবোনা, বললে ভুল হবে। বলবো জ্ঞান আছে, নেই শুধু ধৈর্য্য। শুধুই চেষ্টার অভাব।
ফলাফল?
আপনার লেখা যতই মানসম্পন্ন হোক না কেন, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে আপনি অল্প দিনেই হারিয়ে যাবেন – এটাই চরম সত্য। নিজের টাকা খরচ করে বই প্রকাশ করবেন ঠিকই, কিন্তু তা কেবল বুকশেলফেই বন্দি থাকবে। ফেসবুকে টাকা ঢেলে (বুস্ট করে) হয়তো দু-চার কপি বই বিক্রি করা যাবে, কিন্তু লেখক হিসেবে আপনার স্থায়ী পরিচিতি বাড়বে না।
আমি নিজে অন্তত ২০-২৫টি সাহিত্য ও ব্লগ সাইট নিয়ে স্টাডি করেছি। অনেক সাইটের বড় বড় সম্পাদক নামের বড় পদধারীর সাথে আমার চরম বিতন্ডাও হয়েছে তাদের ক্রিয়া কলাপের জন্য। তারা নিজেদের সাহিত্য জগতের ‘মহাকবি’ বা ‘মহাগল্পকার’ ভেবে বসে আছেন! ভাবখানা এমন যেন, ম্যাক্সিম গোর্কি, আলাওল, মির্জা গালিব, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা জীবনানন্দ দাশ ওনাদের আগে জন্মেছিলেন বলেই টিকে গেছেন; ওনাদের সমসাময়িক হলে এইসব মহাপুরুষদের কোনো আসনই থাকত না! এই সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষগুলো আরেকজনকে বা নতুনদের কীভাবে সাহিত্য জগতে জায়গা করে দেবে?
তাই মনে রাখবেন, নিজের জায়গা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়। আশি বা নব্বই দশকের লেখক যেমন: হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, কাজী আনোয়ার হোসেন কিংবা তসলিমা নাসরিন, এঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের মেধা আর বিশ্বাসের জোরে নিজেদের পথ তৈরি করেছিলেন। বর্তমানের লেখকদেরও ঠিক একইভাবে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে, নতুনত্বকে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর প্রিন্ট মিডিয়া নিয়ে পড়ে থাকলে একসময় সাহিত্যের জগৎ থেকে বিলীন হয়ে যেতে হবে তাদের। এখন নিজেদের প্রচারে অসংখ্য প্লাটফর্ম। সব কিছুই গ্রহন করতে হবে। কোনোটাই বাদ দেয়া যাবেনা।

আমার অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তি
আমি নিজে সাহিত্য অত ভালো বুঝি না, তবে পড়ার ও লেখার একটু আধটু চেষ্টা করি মাত্র। জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট একটি চাকরি করি, লেখালেখি বা ওয়েবসাইট দিয়ে আমার সংসার চালাতে হয় না – আলহামদুলিল্লাহ।
গত বইমেলায় আমার বড় সন্তানের অনুরোধে, এক ছোট ভাইয়ের প্রকাশনী থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। লেখক হিসেবে আমি ৫০টি বই পেয়েছিলাম, যার মধ্যে ৩০টিই পরিচিতদের উপহার দিয়েছি। আর আমার নিজের ওয়েবসাইট থেকে মাত্র ৩টি বই বিক্রি করতে পেরেছি! এই সামান্যই আমার প্রাপ্তি। তবুও আমার কোনো আফসোস বা কষ্ট নেই। কিন্তু যারা সাহিত্যকে নিজেদের ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন, তাদের অবশ্যই সময়ের এই কঠিন ও পিচ্ছিল পথ ধরেই হাটতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে।
অনলাইন পোর্টাল ও প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা

যা বলছিলাম সেখানে আসি, বিভিন্ন সাইটে লেখা আপ করা প্রসংগে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লেখা জমা দেওয়া নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা বেশ অম্লমধুর। আমার ওয়েবসাইটে প্রায় ২৬০ জন নিবন্ধিত লেখক আছেন। প্রতিদিন এখনো নতুন ২/৪ জন রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা লগইন করতে পারেন কিনা, আমি জানি না। প্রতিদিন অনেকেই পাসওয়ার্ড রিট্রিভ করার চেষ্টা করেন এবং প্রতিটি নোটিফিকেশন আমার ইমেইলে আসে। আমি যখন তাদের সাহায্য করার জন্য ফিরতি ইমেইল করি, তখন কোনো সাড়া পাই না। এর মানে দাঁড়ায়, তারা যে ইমেইল দিয়ে সাইন-আপ করেছেন, সেটি আসলে কোনো সচল বা ভেলিড (Active/Valid) ইমেইলই নয়! যদি একটিভ বা ভেলিড ইমেইল হতো তাহলে তারা অবশ্যই পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নোটিফিকেশন পেতেন।
আবার অনেকে মোবাইল থেকে লেখা আপলোড করার সময় একটুতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। লগইন করার পর স্ক্রিনে কী মেসেজ আসছে তা না পড়েই পাসওয়ার্ড সেভ করে ফেলছেন; যেখানে ‘Yes’ করার কথা সেখানে ‘No’ দিচ্ছেন, আর যেখানে ‘No’ করার কথা সেখানে ‘Yes’ করে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন। ফলে প্রথমবার লগইন করতেই বেগ পেতে হচ্ছে এবং বিরক্ত হয়ে তারা আর সাইটে প্রবেশ করছেন না।
ফেসবুক বনাম নিজস্ব ওয়েবসাইট: একটি ভুল তুলনা

অনেকের ধারণা ফেসবুকের মতোই যেকোনো সাইটে ক্লিক করলেই ম্যাজিকের মতো ওপেন হয়ে যাবে আর লেখা পোস্ট করা যাবে। তারা হাতির সাথে মশার তুলনা করে বসেন। বুঝতে হবে, ফেসবুক কারও সাথে সার্ভার শেয়ার করে না; সমুদ্রের নিচে তাদের নিজস্ব বিশাল সার্ভার সাম্রাজ্য রয়েছে। তাই তাদের সাইট দ্রুত খোলে।
অন্যদিকে, সাধারণ ওয়েবসাইট বা অ্যাপগুলো অন্য সার্ভারে ফাইল রাখে বলে সেখানে নিরাপত্তা ও বাড়তি সতর্কতা বেশি থাকে। ফলে সাইটটি সম্পূর্ণ লোড হতে হয়তো ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় নিতে পারে।
এখানে আরও একটি বড় সমস্যা হলো ‘ক্যাশ মেমোরি’ (Cache)। কম্পিউটার থেকে মোবাইলে ক্যাশ ডেটা বেশি জমে, কারণ মোবাইলে প্রতি মিনিটে বহুমাত্রিক কাজ হয়। এই ক্যাশ জমতে জমতে একসময় ফোন স্লো হয়ে যায় এবং যেকোনো সাইটে প্রবেশ করা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। অনেক ইউজার এটা বোঝেনই না। মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে গেলে তারা প্রথমেই এই ক্যাশ ক্লিয়ার করে, এরপর মোবাইল খুলে ঠিক করার নামে একটু গুতোগুতি করে হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তাই প্রত্যেক মোবাইল ইউজারের উচিত নিয়মিত ফোনের এবং ব্রাউজারের ক্যাশ ক্লিয়ার করা।
অনলাইনে ‘প্রেমের চিঠি’ প্রতিযোগিতার শিক্ষা

কিছুদিন আগে আমি আমার সাইটে একটি অনলাইন ‘প্রেমের চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা‘র আয়োজন করেছিলাম। লেখকেরা নিজেরাই নিজেদের লেখা সাইটে আপলোড করেছিলেন। কিন্তু তাদের ফোন রিসিভ করতে করতে আর টেকনিক্যাল সমাধান দিতে দিতে আমার জান বের হওয়ার উপক্রম হয়েছিল!
ঐ ইভেন্টে বিজয়ী নির্বাচনের জন্য আমি কোনো বিচারক রাখিনি; অনলাইন পাঠকরাই ছিলেন বিচারক। নিয়ম ছিল – একটি ভেলিড ইমেইল ও একটি আইপি (IP) অ্যাড্রেস থেকে একজন পাঠক কেবল একটি ভোট দিতে পারবেন।
ফলাফল যা দেখলাম, তা সত্যিই চোখ খুলে দেওয়ার মতো। দেশের অনেক নামী-দামী লেখকের লেখাও জমা পড়েছিল। কিন্তু একদম নতুন কিছু লেখক অনলাইনের মেকানিজমটা ধরতে পেরেছিলেন। তারা নিজেদের লেখার লিংক শেয়ার করে প্রচুর পাঠক ও ইমেইল ভোট টানতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং বড় বড় লেখকদের পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছেন। যারা বিজীয় হয়েছিলেন, আমার বিশ্বাস তারা যা ভোট পেয়েছিলেন তারা এরচে আরো দুইগুন বা তিন গুন ভোট বেশী আনতে পারতেন, যদি আমি সহজ একটি শেয়ার করার অপশন রেখে দিতাম। আমি তা রাখিনি, তবুও তারা প্রচুর পরিমানে ভোট আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। কে কেমন লিখেছিলেন, সেটা আমার মুখ্য বিষয় ছিল না। আমার মূল লক্ষ্য ছিল – লেখকেরা যেন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার ও প্রসার নিজে করতে শেখেন। সেসব লেখকদের আমি বিষয়টা বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং সেখানে আমি সফল!

এআই (AI) বনাম মানুষের সাহিত্য
বর্তমান যুগটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর। এর মাধ্যমে এখন অনেকেই রাতারাতি কবি-গল্পকার-লেখক বনে যাচ্ছেন। তবে প্রযুক্তির এই জোয়ারও হয়তো একসময় থিতিয়ে আসবে এবং মানুষ আবার রক্ত-মাংসের মৌলিক লেখকদেরই খুঁজে নেবে। খুঁজে নেবে র বা হাতের লেখা। কিন্তু মাধ্যম হিসেবে এই ‘অনলাইন’ ঠিকই থেকে যাবে।
ইতিমধ্যেই বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান এআই-নির্ভর লেখক, সাংবাদিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের আল্লাহ হাফেজ জানিয়েছেন। কিন্তু অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে আল্লাহ হাফেজ জানায়নি। তাই বলছিলাম, অনলাইন হয়তো আরো বেশ কয়েক যুগ টিকে থাকবে। যেহেতু অনলাইন টিকে থাকবে, সেহেতু আপনার এই অনলইন অভিজ্ঞতাও টিকে থাকবে। টিকে থাকবে আপনার লেখনী।
গুগলের চোখে নিজেকে চেনার উপায়

প্রতিটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই এখন ফলো করার, লেখায় লাইক/কমেন্ট/রিভিউ দেওয়ার সুযোগ থাকে। লেখক হিসেবে আপনার কাজ হবে:
- নিজের ফলোয়ার বৃদ্ধি করা।
- নিজের লেখায় লাইক, কমেন্ট ও রিভিউ টেনে আনা।
- অন্যের কমেন্টের সুন্দর উত্তর দেওয়া এবং অন্যের লেখায় গিয়ে নিজেও গঠনমূলক কমেন্ট করা।
হাজার হাজার পোস্ট লিখে নয়, ২০/৫০ বা ১০০টি মানসম্মত পোস্ট নিয়ে অনলাইনের এই খেলায় নেমে পড়ুন। এই কয়েকটি লেখাই আপনাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে। আপনি যত বেশি ইন্টারঅ্যাকশন (কমেন্ট ও উত্তর) করবেন, গুগল সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে ততো বেশি চিনবে। সার্চবারে আপনার নাম লিখলেই তখন সবার উপরে আপনার প্রোফাইল চলে আসবে। এমনকি এআই-ও আপনাকে সহজে খুঁজে বের করবে।
শেষের পরে অবশেষে,

আবারও বলছি, যদি আপনি আপনার ভেতরের সুপ্ত লেখকসত্তাকে পৃথিবীর সামনে সত্যিকার অর্থে উন্মোচিত করতে চান, তবে বর্তমান সময়ের অনলাইনের প্রাথমিক ও মৌলিক জিনিসগুলো শেখার কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তিকে অবহেলা করা বা এটা আমার কাজ নয় ভেবে দূরে ঠেলে দেওয়া এই যুগে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল। সময়ের এই কঠিন, পিচ্ছিল ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ মুহূর্তে আপনি যদি নিজেকে না বদলান, তবে আপনার প্রিয় ও ভালোবাসার সাহিত্যের রাজ্য থেকে আপনি চিরতরে হারিয়ে যাবেন।
মনে রাখবেন, আধুনিক এই ব্যস্ত দুনিয়ায় কেউ সাগ্রহে আপনার ধুলোপড়া বুকশেলফ ঘেঁটে আপনাকে খুঁজে বের করার অপচেষ্টা করবে না, আর সেই সময়ও কারও নেই। অনলাইনের এই বিশাল সমুদ্রে আপনি যদি নিজেকে দৃশ্যমান করতে না পারেন, তবে পাঠকের কাছে আপনার অস্তিত্বই একসময় মুছে যাবে। নিজের ঢাক নিজেকেই পেটাতে হবে, আর সেই ঢাক বাজানোর আধুনিক মঞ্চটিই হলো অনলাইন।
তাই ইমেইল সচল রাখা, পাসওয়ার্ড রিকভার করা, ব্রাউজারের ক্যাশ ক্লিয়ার করা কিংবা সঠিক নিয়মে সাইটে লগইন করার মতো অতি সাধারণ টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আজই নিজে নিজে আয়ত্ত করুন। অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী লেখক হয়ে উঠুন। পরিবর্তনের হাওয়াকে ভয় না পেয়ে তাকে আলিঙ্গন করতে শিখুন। আপনার মেধা আছে, চমৎকার লেখনী আছে; এখন শুধু দরকার সামান্য একটু প্রযুক্তিগত সচেতনতা আর ধৈর্য। যুগের সাথে নিজেকে আপডেট করুন, অনলাইনের দুনিয়ায় নিজের একটি স্থায়ী ও উজ্জ্বল ঠিকানা গড়ে তুলুন। আপনার ভালোবাসার সাহিত্য বেঁচে থাকুক যুগের পর যুগ, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে থাকা পাঠকের স্ক্রিনে।
সবাই ভালো থাকবেন, প্রযুক্তির সাথে এগিয়ে চলবেন। আল্লাহ্ সবাইকে সুস্থতার সাথে নেক আয়ু দান করুন, সে প্রত্যাশায় আজকের মতো বিদায়।
🙏
কোনো ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। একটি সাইট পরিচালনা করতে গিয়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, তা-ই এই লেখার মাধ্যমে তুলে ধরলাম। লেখকদের আমি ভালোবাসি, তাদের সাথে চলি। নিজের চোখে প্রতিনিয়ত যা দেখছি, তা নিয়েই গুণীজনদের সচেতন করতে এবং সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই আমার এই লেখার অবতারণা।
এখনো কোনো রিভিউ নেই — প্রথম রিভিউটি আপনিই দিন!


